নবীগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলনকৃষক-কৃষাণীর মুখে হাসির ঝলক

0
0

মোঃ হাসান চৌধুরী নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি :
হেমন্তের আগমনে ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব চলছে। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষাণীর চোখে-মূখে আনন্দের ঝিলিক দেখা দিয়েছে। আমন ধানে ধানে ভরে গেছে মাঠ। যতদূর চোখ যায় মাঠে সোনালি ধানের শীষ। চারদিকে মৌ মৌ গন্ধ। এখন কৃষাণ-কৃষাণিরা গোলা, খলা, আঙ্গিনা পরিষ্কার করার কাজে ব্যস্ত। নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম জাতের কিছু কিছু ধান পাকলেও ১৫/২০ দিনের মধ্যে আমন ধান পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হবে। বন্যার কারণে কৃষকের বোর ফসলের ক্ষতি হলেও আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে হাটবাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে ধানের দামও ভালো। তা ছাড়া আগাম ধান কাটার পর আবার একই জমিতে তেল জাতীয় ফসল সরিষা চাষ করতে পারবেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। অর্জিত হয়েছে ১২ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক পরিমাণ জমিতে আমন ফসল অর্জিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.কে.এম মাকসুদুল আলম জানান, পরিবেশ ভালো থাকায় এবার আমন ধানে বিভিন্ন রকমের রোগবালাই কম হওয়ায় কৃষকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে বাড়তি জমিতে আমন ধানের চাষ করেছে, বিধায় উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে নানা সহযোগিতা ছিল।
আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এক বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করতে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। আগাম জাতের উৎপাদনের সময় লাগে ৯০-১০০ দিন।
এ থেকে ধান উৎপাদন হয় ১৪-১৬ মণ পর্যন্ত। আর অন্য জাতের ধান উৎপাদনে সময় লাগে ১২০ দিন পর্যন্ত। ধান উৎপাদন হয় ২০-২৫ মণ পর্যন্ত। তবে এবার ধানের দাম পাবে কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি ২ মণ বস্তায় নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ১৪-১৫শ টাকায়। কৃষি অফিসার জানান, কৃষকরা আমন ধান রোপনে লাইন ও লগু টিক রাখার কারনে রোগ বালাই কম থাকায় এমন ফলন হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন বেশী হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here