দৈনিক সমাজের কন্ঠ

যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আছিয়া খাতুন

স্টাফ রিপোর্টার –  নড়াইলের মোহিষখোলা গ্রামের যৌতুক লোভী স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা, মারপিটে আহত আছিয়া মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নড়াইল জেলার শেখহাটি ইউনিয়নের মোহিষখোলা গ্রামের মো.হায়দার আলীর ছেলে মো. রবিউল মোল্যার সাথে ৪ বছর পূর্বে সামাজিক ভাবে বিবাহ হয় যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের মো. আব্দুল খালেকের মেয়ে আছিয়া খাতুন (২২)। বিবাহের সময় সোনা-গহনা দিলেও রবিউলের লোভ ছিল শ্বশুরের কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়ার। তাইতো আছিয়ার মেহেদীর দাগ মুছতে না মুছতে শুরু হয় যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতন। শত নির্যাতন মেনে নিয়ে সংসার করতে থাকে ভাবে একদিন স্বামী ভালো হবে। এভাবেই পার হয়ে যায় ৪ বছর আছিয়ার কোল জুড়ে আসে এক ফুটফুটে পুত্র সন্তান মহিবুল্লাহ (২) ভাবে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে হয়তো এবার তার স্বামী ভালো কাজ করবে সংসার করবে মন দিয়ে। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের হার আরো বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ইং ২২/০৯/২০১৯ সকাল ১১ টায় আছিয়াকে হত্যার উদেশ্যে দরজার কাঠের ঢাঁসা দিয়ে কপালে, বাম চোখের উপরে, দুই চুয়ালে ও বুকে পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। আছিয়ার আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। এসময় রবিউল ও তার পরিবারের লোক জন আছিয়াকে বিনা চিকিৎসায় ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। আছিয়ার বাবা মো.আব্দুল খালেক এই সংবাদদাতাকে বলেন, আমি লোক মুখে সংবাদ পাইয়া মেয়েকে উদ্ধার করতে যাই তখন বিকাল ৫টা বাজে। আমার মেয়েকে মারপিট করে ঘরে আটকে রাখে আমার মেয়েকে সকাল থেকে রাত পযন্ত এক গøাস পানিও খেতে দেয় নাই। আমি মোহিষখোলা গ্রামের নিছার আলী ও আকলিমা বেগম কে সাথে নিয়ে ঐ দিন রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় আমার মেয়েকে উদ্ধার করি। মেয়ের চিকিৎসার জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে অভয়নগর উপাজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। একথা বলছিলেন আর হতদরিদ্র বাবা আব্দুল খালেক দুই চোঁখ হাত দিয়ে মুছছিলেন। তার চাওয়া আসামীদের সঠিক বিচার হবে এবং তার মেয়ে ও নাতির নিরাপদ থাকে। সেদিনে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আছিয়া কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, সে কোন কথা বলতে পারছিল না সুধু বলেন আমার আমার ছেলে ও আমার ভবিষৎ কি হবে আমার বাবা গরিব কি করে চালাবে আমাদের। এই ঘটনার পর আছিয়ার বাবা মো.আব্দুল খালেক (৫০) বাদী হয়ে মো.রবিউল মোল্যা (৩৫) পিতা. মো. হায়দার আলী মোল্যা ও মোছা- শরিফা বেগম (৫০) স্বামী মো.হায়দার আলী মোল্যা উভয় সাং- মহিষখোলা, শেখহাটি নড়াইল সদর থানায় পারিবারিক সহিংসতা মামলা করেন, মামলা নাম্বার ১৬। মামলার তদন্ত পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মো.খাইরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, মামলার রুজুর পরে আমি অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামী মো,রবিউল মোল্যাকে আটক করে র্কোটে চালান করি। বাকী আসামী ধরতে অভিযান চলছে।