দৈনিক সমাজের কন্ঠ

নীলফামারীতে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ চাপায় দম্পতি সহ নিহত ৩

সুজন মহিনুল,বিশেষ প্রতিনিধি॥নীলফামারীতে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ চাপা পরে এক দম্পতি ও বজ্রপাতে এক নারী সহ প্রাণ হারিয়েছে ৩ জন। নিহতরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এন্তাজুল ইসলাম ওরফে ঘুটু মিয়া(৫২)ও তার স্ত্রী মোমেনা বেগম (৪০)এবং সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের মহব্বত বাজিতপাড়া গ্রামের গৃহিনী রোকেয়া বেগম(৫৫)।

জানা যায়, শুক্রবার (৭ মে)বিকেল হতে জেলার বিভিন্নস্থানে বজ্রসহ কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃস্টি হয়। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। ঝড়ের সময় কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ওই দম্পতি তাদের চার বছরের নাতি মোজহিদুল ইসলাম জাহিদ সহ টিনের চালার বসত ঘরে ঘুমিয়েছিল। এমন সময় কালবৈশাখী ঝড়ে বাড়ির ভেতরে থাকা একটি আম ও একটি মেহগনী গাছ উপড়ে টিনের ঘরে উপড় ভেঙ্গে পরে। এতে ওই দম্পতির মৃত্যু ঘটলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় তাদের নাতি জাহিদ।
নিহতের বড় ছেলে মমিনুর রহমান বলেন,বিকেলে হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির ভেতরে থাকা একটি আম গাছ ও মেহগনী গাছ উপড়ে ঘরের উপর পড়ে। এতে বাবা ও মা চাপা পড়ে।এসময় প্রতিবেশী সহ আমি তাদের উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করে।তবে আমার শিশু সন্তান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় প্রাণে বেঁচে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুন্দুপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী চৌধুরী বলেন, এনতাজুল হক পেশায় অটোরিক্সা চালক এবং তার স্ত্রী মোমেনা খাতুন গৃহীনি ছিলেন। ওই দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। শুক্রবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আক্তার ও সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও পরিবারটিকে উপজেলা পরিষদের পক্ষে ১০ হাজার টাকা সহয়তা প্রদান করেন।
অপর দিকে একইদিনের বিকেলে বজ্রপাতে নিহত হয় সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের মহব্বত বাজিতপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম(৫৫)। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সময় স্বামী স্ত্রী একটি ঘরেই ছিলেন। ওই অবস্থায় রোকেয়া বেগম প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘর থেকে বের হলে বজ্রপাত ঘটনাস্থলে তিনি ঝলসে গিয়ে মারা যান।