স্বাস্থ্য বিভাগের দ্বৈত পদন্নোতি প্রক্রিয়া তার ক্যাডারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।

    0
    0
    File Picture

    ডাঃ বাহারুল আলম – রাষ্ট্রের কর্মচারীদের পদন্নোতির প্রক্রিয়া এক ও অভিন্ন থাকা বাঞ্ছনীয়, স্বাস্থ্য বিভাগে দ্বৈত পদন্নোতি প্রক্রিয়া তার ক্যাডারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

    আবার সেই পুরনো ভুত ঘাড়ে চেপে বসেছে কর্ম কমিশনের। স্বাস্থ্য বিভাগে ডিপিসি উপেক্ষা করে সরাসরি অধ্যাপক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অথচ কর্ম কমিশন কখনও সরাসরি সচিব , অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে সরাসরি নিয়োগের কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নি। জনপ্রশাসন বিভাগে ডিপিসি-র মাধ্যমে কেবল পদে পদন্নোতি নয়, পদ না থাকলেও সুপার নিউমারারি পদে পদন্নোতি দেওয়া হয় প্রতিবছর । কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের ক্ষেত্রে অধ্যাপক নিয়োগে কর্ম কমিশনের এই ইচ্ছা জাগে।

    হেলথ সার্ভিসে পিএসসি–তে উত্তীর্ণ ও পরবর্তীতে ডিপিসি-র মাধ্যমে পদন্নোতি হওয়ার বিধানকে উপেক্ষা করে কর্ম কমিশন এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল।
    বিগত দিনে ডিপিসি-র মাধ্যমে পদন্নোতি পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে । নানা প্রতিবন্ধকতা ও পদন্নোতি পেতে দেরি হওয়ার কারণে অনেকেই সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হওয়ার আগেই অবসরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

    এখন হঠাৎ করে চিকিৎসকদের সকল যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও গবেষণা উপেক্ষা করে সরাসরি অধ্যাপক নিয়োগের মাধ্যমে কর্ম কমিশন অধ্যাপক পদে পদন্নোতি প্রত্যাশিত চিকিৎসকদের হতাশ এবং পদন্নোতির ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
    ডিপিসি-র পদন্নোতির প্রক্রিয়া ও কর্ম কমিশনের সরাসরি নিয়োগ- পরস্পর বিরোধী ও এ সময়ে চিকিৎসকদের বিভ্রান্ত করবে।

    শুরুতেই পিএসসি-র মাধ্যমে পদন্নোতির পদ্ধতি ছিল, পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা আফম রুহুল হকের ঐকান্তিক চেষ্টায় ডিপিসির মাধ্যমে পদন্নোতি প্রথা চালু হয়। চিকিৎসক ছাড়া অপরাপর সকল ক্যাডার ডিপিসির মাধ্যমেই পদন্নোতি পেয়ে থাকে । কেবল চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই পিএসসির মাধ্যমে পদন্নোতি নিতে হত এবং এই প্রক্রিয়ার ফলেই স্বাস্থ্য বিভাগে পদন্নোতি এতোটাই ধীরগতির ছিল যে, মেডিকেল অফিসার হিসাবে যোগদান করে মেডিকেল অফিসার হিসাবেই অবসরে যেতে হত। বড়জোর জুনিয়র কনসাল্টেন্ট হিসাবে পদন্নোতি পেয়ে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসাবেই অবসরে যেতে হত। কখনও কখনও বাপ-বেটা মেডিকেল অফিসার হিসাবে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ছিল। আদু ভাই-র গল্পের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের পদন্নোতির তুলনা হত। প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা আফম রুহুল হক স্বাস্থ্য বিভাগে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন ডিপিসি পদ্ধতির মাধ্যমে পদন্নোতি চালু করে।

    রাষ্ট্রে কর্মচারীদের পদন্নোতির প্রক্রিয়া এক ও অভিন্ন থাকা বাঞ্ছনীয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here